অধ্যক্ষের জীবন বৃত্তান্ত

লে. কর্নেল মো: লুৎফর রহমান, পিএসসি, এইসি সেনা শিক্ষা কোরের একজন চৌকস কর্মকর্তা যিনি ১৯৭১ সালের ০২ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলার অন্তর্গত চাটমোহর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো: জনাব আলী মিয়া যিনি নিজ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মাতা মোছা: মর্জিনা বেগম গৃহিনী। চার ভাইয়ের মধ্যে প্রথম লে. কর্নেল রহমান নিজ গ্রামের বিদ্যালয়েই প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি পার্শ্ববর্তী অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি সমাপ্ত করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে চাটমোহর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সহিত এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে চাটমোহর ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অতঃপর তিনি ১৯৮৯ সালে ইতিহাস শাস্ত্রে অনার্স নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে তিনি দেশবরেণ্য ঐতিহাসিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আব্দুল মোমিন চৌধুরী, ড. মুনতাসির মামুন, ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ ও ড. মেজবাহ কামাল এর মতো জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বসমূহের নিবিঢ় সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান।

শিক্ষা জীবন শেষ করে লে. কর্নেল রহমান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা শিক্ষা কোরে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। সেনাবাহিনীর সুদীর্ঘ চাকুরিতে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে আন্ডার ওয়াটার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ এবং স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস্ (এসআইএন্ডটি), জালালাবাদ সেনানিবাস হতে জুনিয়র কমান্ড এন্ড স্টাফ প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এছাড়া তিনি আর্মি স্কুল অব এডুকশেন এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন (এএসইএ), শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাস, ঘাটাইল হতে শিক্ষা কোরের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এবং সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুল, যশোর সেনানিবাস হতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সে সাথে তিনি মিরপুরস্থ ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) হতে গৌরবজনক স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করতঃ ‘পিএসসি’ ভূষণ অর্জন করেন। একই সাথে তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ (এমডিএস) ডিগ্রী অর্জন করেন।

লে. কর্নেল রহমান কর্মজীবনে দুইবার বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ), ভাটিয়ারির প্রশিক্ষক, এএসইএ-এর প্রশিক্ষক, সেনাসদর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে স্টাফ অফিসার ছাড়াও ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, মোমেনশাহীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন লাইবেরিয়াতে বাংলাদেশ সেক্টর সদর দপ্তরের ‘জনসংযোগ কর্মকর্তা’ (২০০৮-২০০৯) এবং পশ্চিম সুদানের দারফুরে ‘সামরিক পর্যবেক্ষক’ (২০১৫-২০১৬) হিসেবে অত্যন্ত সুনমের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত ২৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে জিরাবো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি লে. কর্নেল রহমান-এর লেখক ও গবেষক হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তিনি সেনাসদরের অধীনে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি প্রকল্পে গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রকাশনাসহ দৈনিক প্রথম আলো, জনকণ্ঠ, সমকাল, Daily Sun পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকে তার অনেকগুলো লেখা প্রকাশিত হয়েছে। লে. কর্নেল রহমান ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।